পুরুলিয়ায় মাওবাদীদের নাম করে পোস্টার
দি নিউজ লায়ন ; পুরুলিয়ার দুটি থানা এলাকা থেকে একাধিক মাওবাদী নাম লেখা পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেট উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল পুরুলিয়া।সোমবার সকালে বান্দোয়ান থানার মধুপুর ও বরাবাজার থানার রানসি মোড়ে এলাকায় বেশ কয়েকটি মাওবাদীনামাঙ্কিত পোস্টার উদ্ধার করে পুলিশ। নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে ঘটনার পরেই দুই থানা এলাকায় পরিদর্শন করেন আইজি বাঁকুড়া রেঞ্জ আর রাজশেখরন।
এদিন বিকেলে কুচিয়া সিআরপিএফ ক্যাম্পের আধিকারিদের সাথে বৈঠক করেন তিনি। স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানাগিয়েছে,এদিন বারবাজার - বন্দোয়ান সড়কেবান্দোয়ান থানার মধুপুর গ্রামের একাধিক বাড়ির দেওয়ালে, দোকানে,লালকালিতে লেখা মাওবাদীদের নামাঙ্কিত পোস্টার দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাছাড়াও রাস্তার পাশে নামাঙ্কিত প্রচুর লিফলেটে পড়ে থাকতে দেখেন ওই গ্রামের বাসিন্দারা। এই পোস্টার দেখতে পেয়েই স্থানীয় থানার পুলিশকে খবর দেন গ্রামবাসীরা। সঙ্গে সঙ্গে সেই সব পোস্টার গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের একটি সুত্রে জানাগিয়েছে, মুলত ৩ ধরনের পোস্টার ছিল। সাদা কাগজে লাল কালিতে বাংলাই লেখা। এবংহিন্দিতে ছাপানো একাধিক পোস্টার বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। একই ধরেন পোস্টার ও সঙ্গে লাল কাপড়ে সাদা কালিতে একটি বড় ব্যানার উদ্ধার করে বরাবাজার-বলরামপুর সড়কের রানসিমোড় থেকে। ওই পোস্টার এ লেখা রয়েছে, " হাজার হাজার একর জমি দখল করে আদানি,বেদান্ত, জিন্দাল, মিত্তাল, টাটা প্রোজেক্ট বানানোর ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করুন।
আবার অন্য পোস্টারে লেখা রয়েছে, “কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা নয়া কৃষিনিতির আড়ালে ভারতীয় কৃষি ব্যাবস্থাকে বৃহত পুঁজিপতি এবং কর্পোরেট ঘরানার হাতে তুলে দেওয়ার সরযন্ত্রকে বার্থ করুন।","স্কুল পঞ্চায়েত ভবন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে পুলিশ ক্যাম্প অবিলম্বে সরানো হোক।”
আবার অন্য পোস্টারে লেখা ","পি এল জি এ কুড়ি তম বর্ষপূর্তি ২ রা থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত পড়া উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে পালন করুন। পাশাপাশি ব্যানারে এবং কিছু পোস্টার এ লেখা রয়েছে "সমস্ত রাজনৈতিক বন্দীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।"ফ্যাসিবাদের প্রতিরোধ করার জন্য জনগণকে আহ্বান করে একটি পোস্টারে লেখা রয়েছে," প্রতিরোধ করতে হলে সমস্ত শোষিত উৎপীড়িত ও খেটে খাওয়া মানুষ একত্রিত হন।
মাওবাদী গণমুক্তি গেরিলা সপ্তাহের পূর্বে এই পোস্টার লিফলেট ও ব্যানার উদ্ধারেজঙ্গলমহল বরাবাজার ও বান্দোয়ান থানা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।তবে কে বা কারা ওই এলাকায় পোস্টার ফেলে গিয়েছে তা তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঝাড়খন্ড সীমানা এলাকার এই দুটি থানা এলাকা হওয়ায় চাপ বেড়েছে জেলা পুলিশের। দুটি থানা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে।

Post a Comment